বাড়ছে আমদানি-রপ্তানি।চট্টগ্রাম বন্দরে বেড়েছে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং

0

ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। প্রত্যাশিত গতিতে না হলেও দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে বাড়ছে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও অন্যান্য কার্যক্রম। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, ডলার সংকট ও এলসি সংকটের কারণে বিশ্ব বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। সেই অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়ছে। বাড়ছে আমদানি-রপ্তানি। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে অর্থনীতিতে গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

করোনার ধাক্কার পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পাশাপাশি ডলার সংকট দেশের আমদানি-রপ্তানি খাতকে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলেছে। এলসি খোলা অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশির জন্য কোনো এলসি খোলা হচ্ছে না। বিলাস দ্রব্য আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে রপ্তানি বাজারেও ধস নেমেছে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত বিশ্বের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়, দেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি দ্রুত কমতে থাকে। এর প্রভাব পড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে। চট্টগ্রাম বন্দর গত বছর প্রায় ৩১ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডেল করেছে। আগের বছর কনটেইনার হ্যান্ডলিং এর পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ ১৪ হাজার টিইইউএস। বৈশ্বিক সংকটের কারণে এক বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কমেছে ১ লাখের বেশি।

চলতি বছরের শুরুতে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে ওঠে। সে সময় চট্টগ্রাম বন্দর থ্রি মিলিয়ন ক্লাব থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা ছিল। আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় খালি কন্টেইনারের সংখ্যা বাড়ছে। মার্চ থেকে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। স্বাভাবিক সময়ের মতো গতিশীল না হলেও আমদানি-রপ্তানি কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। এপ্রিলে তা আরও বেড়েছে।

গতকাল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৭৫২টি টিইইউএস কনটেইনার আমদানি হয়েছে। একই সময়ে ৫৫ হাজার ৯৪০ টিইইউএস কন্টেইনার রপ্তানি হয়েছে, যা মার্চ মাসের তুলনায় বেশি। মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৯৮ হাজার ৭৩৬ টিইইউএস কনটেইনার পণ্য আমদানি হয়েছে। রপ্তানি হয়েছে ৫৫ হাজার ১৬০ টিইইউএস। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমদানি হয়েছে ৭৭ হাজার ৮৪১ টিইইউএস। রপ্তানি হয়েছে ৫৬ হাজার ২২৪ টিইইউএস। বন্দর সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি বা মার্চের তুলনায় এপ্রিলে আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে। একই সঙ্গে এপ্রিল মাসে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং-এর পরিমাণও বেড়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৪২টি টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪টি টিইইউএস কন্টেইনারে দাঁড়িয়েছে। মার্চ মাসে, এটি আবার বেড়ে ২১,৯৭৬ টিইইএস-এ পৌঁছেছে। এপ্রিলে আমদানি-রপ্তানি ও খালি কন্টেইনার মিলিয়ে মোট ২ লাখ ১৫ হাজার ৮২৫টি টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডেল করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম হলেও আমদানি-রপ্তানিসহ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ধীরে ধীরে বাড়ছে। একে বলা হয় শুভ লক্ষণ।

চট্টগ্রামের একাধিক ব্যবসায়ী নেতা গতকাল জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। চলতি ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *