ভারতে বিবিসি অফিসে তৃতীয় দিনের মতো তল্লাশি চলছে

0

বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো বিবিসির দিল্লি ও মুম্বাই অফিসে অভিযান চালাচ্ছে ভারতের আয়কর বিভাগ।

প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চলছে। আয়কর কর্মকর্তারা কর এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত আর্থিক তথ্য পেতে গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বিবিসির দিল্লি ও মুম্বাই অফিসে পৌঁছায়।

কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিবিসির সহযোগীদের আন্তর্জাতিক কর ও স্থানান্তর ব্যয় তদন্তের জন্য এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

কর কর্মকর্তারা বিবিসির আর্থিক লেনদেন, কোম্পানির কাঠামো এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য নথি খতিয়ে দেখছেন। প্রয়োজনে কপিও করা হচ্ছে।

চলমান তদন্তের কারণে বুধবার বিবিসি কর্মীদের একটি ইমেল পাঠিয়েছে। বলা হয়, কর্মীদের তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। সংস্থাটি সম্প্রচার বিভাগ বাদে সমস্ত কর্মচারীকে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলেছে।

ইমেলটি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সমস্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে কর্মচারীদেরও বলেছে। তাদের প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দিন। আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত আয় প্রকাশ করতে হবে না। কিন্তু বেতন সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিন।

বুধবার বিবিসির কর্মীরা জানান, অফিসে পৌঁছে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ সংগ্রহ করেন আয়কর কর্মকর্তারা।

এদিকে, তল্লাশি অভিযান নিয়ে দেশজুড়ে নিন্দা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এ ঘটনাকে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী বলে অভিহিত করেছে। এমনকি দেশটির সংবাদপত্র মালিক সমিতিও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ পর দেশটিতে বিবিসির দুটি অফিসে অভিযান চালানো হয়। বিবিসি ডকুমেন্টারি গুজরাটে ২০২২ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় মোদির ভূমিকা তুলে ধরে, যা দেশে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তবে কর কর্মকর্তারা বলছেন যে তারা তল্লাশি নয়, একটি ‘আয়কর সমীক্ষার’ অংশ হিসেবে বিবিসি অফিসে গিয়েছিলেন। এদিকে এক বিবৃতিতে বিবিসি জানিয়েছে, তারা আয়কর বিভাগকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে।

ভারতের সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে বিবিসি অফিসে অভিযানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে যে সাম্প্রতিক একটি প্রবণতা রয়েছে যে গণমাধ্যম যারা সরকারী নীতি বা ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করছে তাদের সরকারী সংস্থাগুলি দ্বারা হয়রানি ও ভয় দেখানো হচ্ছে। এই প্রবণতা সাংবিধানিক গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *